Logo
প্রিন্টের তারিখ: 18 October 2026 | প্রকাশের তারিখ: Oct 18, 2026

সংবাদ শিরোনাম : আগ্নেয়াস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযান: ইশরাক হোসেনের বিরুদ্ধে পুলিশি তদন্তের নির্দেশ

আগ্নেয়াস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযান: ইশরাক হোসেনের বিরুদ্ধে পুলিশি তদন্তের নির্দেশ


​নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

১৮ অক্টোবর ২০২৬

​রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে সহযোগীদের নিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়ার ঘটনায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

​আজ রোববার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) প্রধান শফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান। তিনি জানান, ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করতে ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তে আইনের ব্যত্যয় পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

​ঘটনাটি ঘটে গতকাল শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে গেন্ডারিয়া রেলস্টেশন–সংলগ্ন দয়াগঞ্জ গুমটিঘর রেলগেট এলাকায়। পরে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের নিজস্ব ফেসবুক পেজে "ইশরাকের অ্যাকশন: মাদক আস্তানা গুঁড়িয়ে বিক্রেতাদের পুলিশে সোপর্দ" শিরোনামে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়, যা মুহূর্তের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি করে।

​প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, প্রতিমন্ত্রী গাড়ি থেকে নেমেই হাতে পিস্তল উঁচিয়ে ‘এই ধর ধর ধর...’ বলে চিৎকার করছেন। ভিডিওর কিছু অংশে অস্ত্রটি ব্লার বা অস্পষ্ট করা হলেও কিছু অংশে তা স্পষ্টভাবে দেখা গেছে। তাঁর সাথে থাকা দুই ব্যক্তিগত দেহরক্ষী ও এক সরকারি দেহরক্ষীর হাতেও আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যায়। অভিযানের সময় প্রতিমন্ত্রীর সহযোগীদের একজনকে বলতে শোনা যায় ‘একেবারে গুলি করে দেব’ এবং এক দেহরক্ষীকে এক তরুণকে লাথি মারতেও দেখা যায়। পরে আটক ব্যক্তিদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

​অভিযানের বিষয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক পাভেল শিকদার জানান, স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে তারা সেখানে গিয়েছিলেন। পুলিশকে জানানো হলেও তাদের পৌঁছাতে দেরি হয়েছিল।

​এদিকে, একজন প্রতিমন্ত্রীর এভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করে অভিযানে অংশ নেওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আগ্নেয়াস্ত্র নীতিমালার শর্ত অনুযায়ী, বৈধ অস্ত্র কেবল আত্মরক্ষার জন্য ব্যবহার করা যাবে এবং অন্যের ভীতি বা বিরক্তি সৃষ্টি করে এমনভাবে প্রদর্শন করা যাবে না।

​এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন দাবি করেন, তাঁর হাতে থাকা অস্ত্রটি বৈধ। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে শরিফ ওসমান হাদীকে গুলি করার ঘটনার পর আত্মরক্ষার্থে তিনি এই অস্ত্রটি গ্রহণ করেন।

বাস্তব কন্ঠ
Developed by ZapStudio Network
🖨️ প্রিন্ট 💾 JPG 📄 PDF