বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা:
নেত্রকোনায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় সারা দেশে সাংবাদিক সমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। ঘটনার পেছনে মাদকমুক্ত অবস্থান ও পূর্ব শত্রুতার যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর ২০২৬) মোহাম্মদপুর ও মিরপুর সাংবাদিক প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে এক যৌথ প্রতিবাদ সভায় এ দাবি জানানো হয়। শীর্ষ সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেন, সত্য প্রকাশ ও অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে মফস্বল সাংবাদিকদের জীবনের ঝুঁকি ক্রমাগত বাড়ছে।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, গত বছর (১০ নভেম্বর ২০২৫) নেত্রকোনার সোমেশ্বরী নদীর তেরিবাজার ঘাটে সাংবাদিক আলিফের ওপর প্রথম চাপাতি দিয়ে হামলা চালানো হয়। এর প্রায় ১১ মাস পর, গত ১৫ অক্টোবর রাতে তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়। আগের হামলার ঘটনার তদন্ত এবং বর্তমান হত্যাকাণ্ডের পেছনে কোনো নির্দিষ্ট মাস্টারমাইন্ড বা অর্থদাতা জড়িত রয়েছে কি না—সে বিষয়ে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি জোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবাদ সভায় রিপোটিং তুলে ধরে সাংবাদিক শাফায়েত হোসেন বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি বিনীত অনুরোধ, দ্রুততম সময়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করুন। তদন্তে কোনো গাফিলতি হলে সেটিও খতিয়ে দেখতে হবে। ন্যায়বিচার না পাওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথের আন্দোলন ও আইনি প্রক্রিয়া চালিয়ে যাব।”
এদিকে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের (বিএমএসএফ) কেন্দ্রীয় সভাপতি আহমেদ আবু জাফর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। একের পর এক সাংবাদিক হত্যাকাণ্ড ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে চরম হুমকির মুখে ফেলছে।”
সাংবাদিক সমাজের ৮ দফা দাবি:
১. অভিযুক্ত ও হত্যাকারীদের অনতিব্লিমে গ্রেপ্তার।
২. আগের চাপাতি হামলার সঙ্গে বর্তমান হত্যাকাণ্ডের যোগসূত্র পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত।
৩. হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী, নির্দেশদাতা ও অর্থদাতাদের আইনের আওতায় আনা।
৪. নিহত আলিফের পরিবার, সহকর্মী ও মামলার সাক্ষীদের পূর্ণ নিরাপত্তা দান।
৫. তদন্তের নিয়মিত আপডেট গণমাধ্যমকে অবহিত করা ও দ্রুত চার্জশিট প্রদান।
৬. তদন্তে গাফিলতি থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ।
৭. অবিলম্বে যুগোপযোগী ‘সাংবাদিক সুরক্ষা আইন’ প্রণয়ন।
৮. দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।
নিহত সাংবাদিকের মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার কলমাকান্দা উপজেলায় নিজ গ্রামে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এ ঘটনায় পরিবার ও স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ বিচারহীনতার সংস্কৃতির অবসানের দাবি জানিয়েছেন।