Logo
প্রিন্টের তারিখ: 17 October 2026 | প্রকাশের তারিখ: Oct 18, 2026

সংবাদ শিরোনাম : যুব উন্নয়নের প্রশ্নফাঁস: পাঁচ সরকারি কর্মচারীসহ গ্রেফতার ৭, চুক্তি ছিল ৮-১০ লাখ টাকা

যুব উন্নয়নের প্রশ্নফাঁস: পাঁচ সরকারি কর্মচারীসহ গ্রেফতার ৭, চুক্তি ছিল ৮-১০ লাখ টাকা


​স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | ঢাকা

​যুব উন্নয়ন অধিদফতরের ‘সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা’ নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় সরকারি বিভিন্ন দফতরের পাঁচ কর্মচারীসহ চক্রের মোট সাতজন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে এলিট ফোর্স র‍্যাব-৩। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, প্রশ্নপত্র দেওয়ার বিনিময়ে চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা নেওয়ার চুক্তি করেছিল চক্রটি।

​শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‍্যাব-৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন।

​উদ্ধারকৃত আলামত ও গ্রেফেতারকৃতদের পরিচয়

​গ্রেফতার ব্যক্তিদের কাছ থেকে বিপুলসংখ্যক পরীক্ষার প্রবেশপত্র, ফাঁকা স্ট্যাম্প, ব্যাংক চেক, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র, জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) এবং বিভিন্ন মডেলের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

​গ্রেফতারকৃত চক্রের সদস্যরা হলেন:

  • ​মো. রুবেল ইসলাম (৩৩) – ডাটা এন্ট্রি অপারেটর, পরিবেশ অধিদফতর
  • ​এস এম ইমদাদুল ইসলাম (৩৫) – কম্পিউটার অপারেটর, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)
  • ​জাহাঙ্গীর (৩৮) – কম্পিউটার অপারেটর, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)
  • ​নূর মোহাম্মদ (৩০) – অফিস সহায়ক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)
  • ​আসাদুল ইসলাম (৩৩) – অফিস সহায়ক, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়
  • ​মো. মফিজুল ইসলাম (২৩) – চাকরিপ্রত্যাশী
  • ​মো. হাসিনুর রহমান সুজন (৩২) – চাকরিপ্রত্যাশী

​যেভাবে পরিচালিত হয় ধারাবাহিক অভিযান

​সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব কর্মকর্তা জানান, গত ১০ অক্টোবর যুব উন্নয়ন অধিদফতরের ২৪২টি শূন্যপদের বিপরীতে ৩ লাখ ১৯ হাজার চাকরিপ্রার্থীর বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। সকাল ১১টায় পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও, ১০টা ৩ মিনিটে প্রশ্নফাঁসের বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে পরীক্ষা স্থগিত করে কর্তৃপক্ষ।

​ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর র‍্যাব ছায়াতদন্ত শুরু করে এবং ১৪ থেকে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালায়:

  • ​১৪ অক্টোবর: মতিঝিল এলাকা থেকে মূল চক্রের রুবেল, মফিজুল ও সুজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যে উত্তরখান থেকে গ্রেফতার করা হয় এনবিআরের ইমদাদুলকে। পরবর্তীতে র‍্যাব-৪-এর সহযোগিতায় মিরপুর-১০ থেকে গ্রেফতার হন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আসাদুল।
  • ​১৫ অক্টোবর: আসামিদের মোবাইল চ্যাট ও কল রেকর্ড পর্যালোচনার ভিত্তিতে সাভার এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় নূর মোহাম্মদকে।
  • ​১৬ অক্টোবর: নূর মোহাম্মদের তথ্যের ভিত্তিতে মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে এনবিআরের কম্পিউটার অপারেটর জাহাঙ্গীরকে গ্রেফতার করে র‍্যাব।

​মামলার অগ্রগতি ও মূল উৎসের সন্ধান

​এ ঘটনায় গত ১১ অক্টোবর যুব উন্নয়ন অধিদফতরের পক্ষ থেকে রাজধানীর মতিঝিল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

​গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে প্রশ্ন পাওয়ার দাবি করলেও এর পক্ষে কোনো সন্তোষজনক প্রমাণ দিতে পারেননি। র‍্যাব জানিয়েছে, প্রশ্নফাঁসের মূল উৎস এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এই চক্রের মূল হোতা এবং প্রশ্নফাঁসের প্রকৃত উৎস খুঁজে বের করতে র‍্যাবের তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

বাস্তব কন্ঠ
Developed by ZapStudio Network
🖨️ প্রিন্ট 💾 JPG 📄 PDF