Logo
প্রিন্টের তারিখ: 17 October 2026 | প্রকাশের তারিখ: Oct 18, 2026

সংবাদ শিরোনাম : সেপ্টেম্বরে হামলার শিকার ৪৩ সাংবাদিক, জড়িয়েছে পরিবার ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান: মিডিয়া মনিটর

সেপ্টেম্বরে হামলার শিকার ৪৩ সাংবাদিক, জড়িয়েছে পরিবার ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান: মিডিয়া মনিটর

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা:

দেশে সংবাদকর্মীদের ওপর নির্যাতন, হয়রানি ও হুমকির মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। সদ্য সমাপ্ত সেপ্টেম্বর মাসে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অন্তত ৪৩ জন সংবাদকর্মী নানাভাবে শারীরিক হামলা, আইনি নিপীড়ন ও হুমকির শিকার হয়েছেন। শুধু সাংবাদিকরাই নন, তাঁদের পরিবারের সদস্যরাও শারীরিক নির্যাতন, বাসভবনে হামলা এবং অপহরণের মতো মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছেন।

​বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) মানবাধিকার ও গণমাধ্যম বিষয়ক তদারকি সংস্থা ‘বাংলাদেশ মিডিয়া মনিটর’ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে।

​প্রতিবেদনে জানানো হয়, সেপ্টেম্বর মাসে দেশে গণমাধ্যমকর্মী ও প্রতিষ্ঠানের ওপর মোট ৩১টি পৃথক আক্রমণের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সর্বাধিক ৩৫ দশমিক ৪৮ শতাংশ ঘটনা ছিল সরাসরি হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের, যেখানে ১৩ জন সাংবাদিক ভুক্তভোগী হয়েছেন। এছাড়া আইনি নিপীড়ন ও মামলার শিকার হয়েছেন ৮ জন সাংবাদিক (১৯.৩৫ শতাংশ)।

​শারীরিক হামলার ৫টি পৃথক ঘটনায় মারাত্মক আহত ও রক্তাক্ত হয়েছেন ১১ জন সাংবাদিক (১৬.১৩ শতাংশ)। একই সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার, মামলা, হয়রানিমূলক জিজ্ঞাসাবাদ এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দের মুখোমুখি হতে হয়েছে ২ জন সংবাদকর্মীকে। বকেয়া বেতন না পেয়ে এক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

​পারিবারিক নিরাপত্তা ও কর্মস্থলে বৈষম্য:

বাংলাদেশ মিডিয়া মনিটরের তথ্যমতে, পেশাগত ক্ষেত্রের বাইরে সাংবাদিকদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক নিরাপত্তাও বিঘ্নিত হচ্ছে। ৩ জন সাংবাদিকের নিজ বাসভবনে সশস্ত্র হামলা, তল্লাশির নামে তাণ্ডব ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্যাম্পাসে দায়িত্ব পালনকালে ৩ সংবাদকর্মী লাঞ্ছিত হন এবং একটি উন্মুক্ত সমাবেশে ‘মব’ হামলার শিকার হন অপর এক সাংবাদিক। অন্যদিকে, একটি সংবাদ সম্মেলনে একজন নারী সাংবাদিকের ওপর ধর্মীয় শর্ত চাপিয়ে লিঙ্গবৈষম্যমূলক আচরণের তথ্য পাওয়া গেছে।

​হামলাকারীদের পরিচয়:

প্রতিবেদনে অপরাধীদের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিচয় বিশ্লেষণ করা হয়েছে। সংঘটিত ৩১টি ঘটনার মধ্যে অন্তত ১৫টিতে সরাসরি রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী ও সহযোগী সংগঠনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। অবশিষ্ট ১৬টি ঘটনার পেছনে ছিল স্থানীয় দুর্নীতিবাজ আমলাতন্ত্র, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একক স্বেচ্ছাচারিতা ও সংঘবদ্ধ মাদক চক্র।

​সংস্থাটি জানায়, সাংবাদিক নির্যাতন রোধে দ্রুত কার্যকর আইনি পদক্ষেপ ও হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় না আনলে স্বাধীন সাংবাদিকতা চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে।

বাস্তব কন্ঠ
Developed by ZapStudio Network
🖨️ প্রিন্ট 💾 JPG 📄 PDF