অনলাইন ডেস্ক | জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা ভোটার আইডি কার্ডে নাম, জন্মতারিখ, বাবা-মায়ের নাম, পেশা কিংবা ঠিকানায় ভুল থাকলে তা সংশোধনের সুযোগ দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। তবে সংশোধনের ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে ভিন্নতা রয়েছে। আবেদনপ্রক্রিয়া দ্রুত ও ঝামেলামুক্ত করতে আগেই প্রয়োজনীয় সরকারি নথি প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ভুল তথ্যের ধরন অনুযায়ী যেসব প্রমাণপত্র জমা দিতে হতে পারে, তার বিস্তারিত নিচে তুলে ধরা হলো:
১. নাম সংশোধন
নামের বানান বা আংশিক সংশোধনের জন্য প্রযোজ্য ক্ষেত্রে নিচের নথিগুলো প্রয়োজন হয়:
- শিক্ষা সনদ (এসএসসি, জেএসসি বা পিএসসি)।
- অনলাইন ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন সনদ।
- পাসপোর্ট ও ড্রাইভিং লাইসেন্স (যদি থাকে)।
- সন্তানের জন্মসনদ বা শিক্ষাগত যোগ্যতা সংক্রান্ত সনদ (যদি থাকে)।
- বিবাহিতদের ক্ষেত্রে কাবিননামা বা বিবাহ সনদ এবং স্বামী/স্ত্রীর এনআইডি।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: পুরো নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে উল্লিখিত দলিলের পাশাপাশি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সম্পাদিত হলফনামা (অ্যাফিডেভিট) দাখিল করতে হয়। ক্ষেত্রবিশেষে নির্বাচন কমিশন সরেজমিন তদন্ত পরিচালনা করতে পারে।
২. বাবা-মায়ের নাম সংশোধন
বাবা বা মায়ের নামের বানান, পদবি কিংবা সম্পূর্ণ নাম পরিবর্তনের জন্য জমা দিতে হতে পারে:
- আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ও অনলাইন জন্ম নিবন্ধন।
- বাবা-মায়ের এনআইডির কপি।
- ভাই-বোনদের এনআইডি ও শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ।
- পাসপোর্ট বা ড্রাইভিং লাইসেন্স (যদি থাকে)।
- সম্পূর্ণ নাম পরিবর্তনের প্রয়োজনে বিদ্যুৎ বিলের কপি বা কর (ট্যাক্স) পরিশোধের রশিদসহ অতিরিক্ত নথি।
৩. জন্মতারিখ ও বয়স সংশোধন
জন্মতারিখ সংক্রান্ত তথ্য পরিবর্তনের জন্য প্রযোজ্য ক্ষেত্রে নিচের দলিলগুলো প্রয়োজন:
- শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ (এসএসসি/জেএসসি/পিএসসি)।
- অনলাইন জন্ম নিবন্ধন ও ভাই-বোনদের এনআইডি।
- ওয়ারিশ সনদ ও কাবিননামা।
- পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স বা সিভিল সার্জন কর্তৃক প্রদানকৃত বয়স নির্ধারণী প্রতিবেদন।
- চাকরিজীবীদের জন্য সার্ভিস বুক, এমপিও শিট, অফিসের প্রত্যয়নপত্র অথবা অবসরপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে পেনশন বই।
- বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি সনদ।
৪. বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন
ঠিকানা হালনাগাদ বা পরিবর্তনের জন্য জমা দিতে হবে:
- অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ।
- সর্বশেষ পরিশোধিত বিদ্যুৎ বিলের কপি।
- চৌকিদারি ট্যাক্স বা পৌর কর/সিটি করপোরেশন ট্যাক্সের রশিদ।
- সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশন থেকে প্রাপ্ত নাগরিকত্ব/বাসস্থান সংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আবেদনের গুরুত্ব ও ধরণ অনুযায়ী প্রয়োজনে অতিরিক্ত প্রমাণপত্র চাওয়া হতে পারে। তাই আবেদনের পূর্বে সমর্থক হিসেবে যত বেশি সম্ভব সরকারি নথি সংগ্রহে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।