প্রতিবেদক: মোঃ রায়হান, শরীয়তপুর প্রতিনিধি
শরীয়তপুর:
মা ইলিশ সংরক্ষণে পদ্মায় ২২ দিনের মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা চলাকালে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার চরভাগা ইউনিয়নে নিবন্ধিত জেলেদের জন্য সরকারি চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নিয়ম তোয়াক্কা না করে জেলে কার্ডহীনদের মাঝে স্লিপ বিতরণ, নির্ধারিত ওজনের চেয়ে কম চাল প্রদান এবং তদারকি কর্মকর্তা (ট্যাগ অফিসার)-এর অনুপস্থিতিতে এ কার্যক্রম পরিচালনায় ক্ষোভে ফুসে উঠছেন স্থানীয় প্রকৃত জেলেরা।
উপজেলা মৎস্য কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মা ইলিশের প্রজনন সুরক্ষায় ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত নদী-নালায় সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। এ সময় কর্মহীন নিবন্ধিত জেলে পরিবারের জীবনধারণের জন্য প্রতি পরিবারকে ২৫ কেজি করে চাল সহায়তা দেওয়া হয়। এর আওতায় চরভাগা ইউনিয়নের ১ হাজার ৬৭৮ জন নিবন্ধিত জেলের নামে চাল বরাদ্দ আসে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে চরভাগা ইউনিয়ন পরিষদে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রকৃত জেলে না হওয়া সত্ত্বেও অনেককে চালের স্লিপ দেওয়া হয়েছে। অনুসন্ধানে উঠে আসে, ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আ. রহিম খান (স্লিপ নং ৬৫৫) এবং একই ওয়ার্ডের মরন সরদার (স্লিপ নং ৭৩০)—কারো কাছেই সরকারি নিবন্ধিত জেলে কার্ড নেই। তা সত্ত্বেও তাদের নামে অনায়াসে চালের স্লিপ ইস্যু করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী নিবন্ধিত জেলেদের অভিযোগ, পরিষদ-কেন্দ্রিক স্বজনপ্রীতি ও জালিয়াতির কারণে তাদের অনেকেই খাদ্য সহায়তা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এছাড়া বিতরণস্থলে প্রতি পরিবারকে ২৫ কেজির বদলে কম চাল দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, সরকারি নির্দেশনানুযায়ী ত্রাণ বা প্রণোদনা বিতরণের সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত 'ট্যাগ অফিসার'-এর উপস্থিতি বাধ্যতামূলক হলেও চরভাগা ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা ভেদরগঞ্জ উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রিপন মিয়াকে সেখানে পাওয়া যায়নি। তাঁর অনুপস্থিতিতে কীভাবে স্বচ্ছতার সাথে চাল বিতরণ সম্ভব, তা নিয়ে চরম ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
অনিয়মের বিষয়ে অভিযুক্ত চরভাগা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ইব্রাহিম মল্লিক মুঠোফোনে জানান, "চাল বিতরণে কোনো অনিয়ম হওয়ার কথা নয়। আমি অসুস্থ থাকায় ব্যক্তিগতভাবে পরিষদে যেতে পারিনি।"
তবে ভেদরগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল ইমরান স্পষ্ট করে বলেন, "যাদের নামে সরকারি জেলে কার্ড নেই, তাদের কোনোভাবেই সরকারি চাল পাওয়ার সুযোগ নেই।"
পুরো বিষয়ে ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবুবকর সিদ্দিক জানান, "বিষয়টি সম্পর্কে দ্রুত খোঁজ নেওয়া হবে। অনিয়ম বা স্বজনপ্রীতির সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে কাজ বন্ধ রাখা অসহায় জেলেরা এ ঘটনার দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করে তাঁদের প্রাপ্য সহায়তা সঠিকভাবে পাওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।