Logo
প্রিন্টের তারিখ: 17 October 2026 | প্রকাশের তারিখ: Oct 18, 2026

সংবাদ শিরোনাম : ‘যুগ্মসচিব’ পরিচয়ে মাউশিতে তদবির করতে এসে গ্রেপ্তার জুলাই গণহত্যার আসামি

‘যুগ্মসচিব’ পরিচয়ে মাউশিতে তদবির করতে এসে গ্রেপ্তার জুলাই গণহত্যার আসামি

​

​বিশেষ প্রতিনিধি | ঢাকা

​মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) নিজেকে ‘যুগ্মসচিব’ ও বিসিএস ক্যাডার পরিচয় দিয়ে চার কর্মচারীর নিয়োগ সংক্রান্ত তদবির করতে এসে আলমগীর শিকদার নামে এক ভুয়া কর্মকর্তা হাতেনাতে ধরা পড়েছেন। পরবর্তীতে তাঁকে রাজধানীর শাহবাগ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

​আজ বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর শিক্ষা ভবনে অবস্থিত মাউশি কার্যালয় থেকে তাকে আটক করা হয়। আটক আলমগীর শিকদার গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সুলতানশাহী গ্রামের ইনজিন শিকদারের ছেলে।

​শিক্ষা কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আলমগীর শিকদার একজন পেশাদার প্রতারক এবং তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে জুলাই গণহত্যার একটি মামলার অন্যতম আসামি।

​যেভাবে ধরা পড়লেন ভুয়া যুগ্মসচিব

মাউশি সূত্র জানায়, গোপালগঞ্জের সুলতানশাহী কেকানিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির চার কর্মচারীর নিয়োগ সংক্রান্ত তদবির নিয়ে গত দুই সপ্তাহ আগে মাউশিতে আসেন আলমগীর শিকদার। সে সময় তিনি নিজেকে বিসিএস ১৩তম ব্যাচের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিইডি) মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব হিসেবে মাউশির শিক্ষা কর্মকর্তা (মাধ্যমিক-২) মওদুদ আহমদের কাছে পরিচয় দেন। একই সঙ্গে তাঁর ছেলে সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল হিসেবে কর্মরত বলেও দাবি করেন।

​তবে তাঁর কথাবার্তা ও আচরণে অসংলগ্নতা দেখা দিলে কর্মকর্তা মওদুদ আহমদের সন্দেহ হয়। এরপর কৌশলে আজ বুধবার তাঁকে পুনরায় মাউশি কার্যালয়ে ডেকে আনা হয়। কার্যালয়ে আসার পর তাঁকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে প্রতারণার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে মাউশি কর্তৃপক্ষ তাঁকে আটক করে শাহবাগ থানা পুলিশে সোপর্দ করে।

​মাউশির পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) অধ্যাপক মো. নাজমুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "উক্ত ব্যক্তি একটি নিয়োগের তদবির নিয়ে গত কয়েক দিনে তিন থেকে চারবার মাউশিতে আসেন। তাঁর চালচলনে সন্দেহ হওয়ায় আজ ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি ভুয়া প্রমাণিত হন। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে পুলিশের কাছে তুলে দেওয়া হয়েছে।"

​প্রতারকদের অভয়ারণ্যে পরিণত মাউশি!

শিক্ষা ক্যাডার ও বিভিন্ন মন্ত্রীর ভুয়া পরিচয় দিয়ে মাউশিতে তদবির করতে এসে প্রতারক ধরা পড়ার ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর আগে গত ২৭ জুলাই মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের নাম ব্যবহার করে ভুয়া আধা সরকারি পত্র (ডিও লেটার) নিয়ে বদলির তদবির করতে এসে মো. মুহিব্বুল্লাহ নামে আরেক প্রতারক ধরা পড়েছিলেন। সে সময় নিজেকে ৩৬তম বিসিএসের ক্যাডার ও বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক দাবি করা সেই প্রতারকের কাছ থেকে ১৩টি ভুয়া ডিও লেটার, বিপুল পরিমাণ ভিজিটিং কার্ড, চেকবই এবং জাল কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়েছিল।

​ঘন ঘন এ ধরনের প্রতারক ধরা পড়ার ঘটনায় মাউশির নিরাপত্তা ও সাধারণ দর্শনার্থীদের প্রবেশের তদারকি ব্যবস্থা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠেছে। আটক আলমগীর শিকদারের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় প্রতারণা ও জালিয়াতির মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

বাস্তব কন্ঠ
Developed by ZapStudio Network
🖨️ প্রিন্ট 💾 JPG 📄 PDF