নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা | ১৪ অক্টোবর, ২০২৬
ভালো বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে রাশিয়ায় মানবপাচার এবং পরবর্তীতে সেখানে পাচার হওয়া বাংলাদেশিদের জোরপূর্বক ইউক্রেন যুদ্ধে পাঠানোর এক ভয়াবহ ও নির্মম তথ্য উন্মোচিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক এই মানবপাচার চক্রের শিকার হওয়া ৩০ জন বাংলাদেশির মধ্যে ইতোমধ্যে ২০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। মৃত্যুর মুখ থেকে দেশে ফিরতে পেরেছেন মাত্র দুজন।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারস্থ এসআরবি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন এসআরবি-১০ এর অধিনায়ক আসাদুজ্জামান।
সংবাদ সম্মেলনে এসআরবি কর্মকর্তা জানান, পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরানো ও উন্নত জীবনের স্বপ্নে জমিজমা বিক্রি করে রাশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন ভুক্তভোগী বাংলাদেশিরা। তবে সেখানে পৌঁছানোর পরই বদলে যায় দৃশ্যপট। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চাকরি না দিয়ে আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রটি তাঁদের সরাসরি ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠাতে বাধ্য করে।
যুদ্ধের নির্মম অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে এসআরবি-১০ এর অধিনায়ক বলেন, "যুদ্ধক্ষেত্রে প্রতিপক্ষের সামরিক অবস্থান শনাক্ত করতে এসব বাংলাদেশি যুবকদের সরাসরি ড্রোনের নিচে মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হতো। এই চরম নির্মমতার শিকার হয়ে এ পর্যন্ত ২০ জন বাংলাদেশি মৃত্যুবরণ করেছেন, যাঁদের মরদেহ উদ্ধারের সম্ভাবনাও এখন প্রায় শূন্যের কোঠায়।"
তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ৩০ জনের অবশিষ্ট ১০ জনের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাঁদের মধ্যে ছয়জন যুদ্ধক্ষেত্রে বন্দি অবস্থায় আছেন, দুজন মস্কোর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং ভাগ্যক্রমে জীবিত অবস্থায় দেশে ফিরতে পেরেছেন মাত্র দুজন। মানবপাচারের এই অমানবিক বিবরণ তুলে ধরার সময় কর্মকর্তা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
ঘটনার তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপের অগ্রগতি সম্পর্কে অধিনায়ক আসাদুজ্জামান জানান, চাঞ্চল্যকর এই পাচার চক্রের মূল হোতা মিজানসহ দুই সদস্যকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। চক্রের বাকি সদস্যদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ভবিষ্যতে আর কেউ যেন অধিক উপার্জনের লোভে অবৈধ পথ কিংবা প্রতারক চক্রের এমন ফাঁদে পা না দেন, সে বিষয়ে সর্বসাধারণকে সচেতন ও সতর্ক থাকার জোর আহ্বান জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।