ঢাকা: দেশে নগদ বা কাগুজে মুদ্রাবিহীন (ক্যাশলেস) আর্থিক লেনদেনে এক নতুন ইতিহাসের সূচনা হতে যাচ্ছে। আগামী ১ নভেম্বর ২০২৬ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বজনীন পেমেন্ট ব্যবস্থা ‘বাংলা কিউআর’-এর চতুর্থ ধাপের আনুষ্ঠানিক সম্প্রসারণ শুরু হচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশজুড়ে চালু হবে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি (পিটুপি) ডিজিটাল লেনদেনের সুযোগ, যা অনানুষ্ঠানিক ও ক্ষুদ্র খাতে কাগুজে টাকার নির্ভরতা অনেকাংশে কমিয়ে আনবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, এই নতুন ব্যবস্থায় লেনদেনের জন্য কোনো বাণিজ্যিক মার্চেন্ট অ্যাকাউন্টের প্রয়োজন হবে না। সাধারণ রিকশাচালক, বাস কন্ডাক্টর, ফুটপাতের দোকানদার কিংবা সাহায্যপ্রার্থীরাও নিজেদের ব্যক্তিগত কিউআর কোড ব্যবহার করে সরাসরি এক মোবাইল অ্যাপ থেকে অন্য অ্যাপে নিখুঁত অঙ্কের টাকা আদান-প্রদান করতে পারবেন।
বাংলা কিউআর-এর চতুর্থ ধাপের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে ১৪৩ কোটি থেকে ১৮০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। বর্তমানে সারা দেশে প্রায় ৪০ লাখ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এই কিউআর সেবা সক্রিয় রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লক্ষ্য, এই অন্তর্ভুক্তিমূলক সেবার মাধ্যমে দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ ৩,০০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা। গুগল, মেটা ও হুয়াওয়ের মতো আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি সংস্থাও বাংলাদেশের এই ওপেন-মডেল ব্যবস্থার প্রতি তাদের আগ্রহ প্রকাশ করেছে।