নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর কদমতলী থানাধীন জুরাইন এলাকায় ছিনতাইয়ের সময় সহযোগীর ছুরিকাঘাতে নিহত অটোচালক মো. জনি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় জড়িত প্রধান দুই ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করেছে পিবিআই ঢাকা মেট্রো দক্ষিণ।
রোববার (১১ অক্টোবর) খিলগাঁওয়ের বনশ্রীস্থ পিবিআই ঢাকা মেট্রো দক্ষিণ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান পুলিশ সুপার এস এম মোস্তাইন হোসেন।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, নিহত মো. জনি পেশায় একজন অটোচালক ছিলেন। গত ২৯ আগস্ট রাত ১টার দিকে তিনি বাসা থেকে বের হন। পরবর্তীতে ভোর ৫টার দিকে কদমতলী থানার জুরাইন এলাকার মোক্তার হোসেন সড়কে বুকে ছুরিকাঘাতের জখমসহ তাকে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় টহল পুলিশ। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের মা ডালিয়া (৬০) বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে কদমতলী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার ছায়া তদন্ত শুরু করে পিবিআই ঢাকা মেট্রো দক্ষিণ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে গত ৯ অক্টোবর রাতে কদমতলী এলাকা থেকে মেহেদী হাসান বাপ্পিকে (২৮) গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১০ অক্টোবর রাতে একই এলাকা থেকে অপর আসামি মো. নুর আলম বারেককে (২৪) গ্রেফতার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, গ্রেফতারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, গত ২৯ আগস্ট রাত সাড়ে ৩টার দিকে জনিসহ আসামিরা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে ঘটনাস্থলে যান। এ সময় দুই পথচারীকে আসতে দেখে তারা তাদের পথরোধ করেন এবং মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও কাঁধে থাকা একটি ব্যাগ ছিনিয়ে নেন।
ছিনতাই শেষে পালানোর সময় এক পথচারী জনিকে পিছন থেকে ধরে ফেলেন। এ সময় ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে জনিকে ছাড়িয়ে নিতে সহযোগী বাপ্পি তার হাতে থাকা ছুরি দিয়ে ওই পথচারীকে আঘাত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে সেই ছুরির আঘাত সরাসরি জনির বুকে গিয়ে লাগে। জনির চিৎকারে বাপ্পি ও নুর আলম বারেক ছিনতাইকৃত মালামাল নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে স্থানীয় এক দারোয়ান ও পথচারীদের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে জনিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।