Logo
প্রিন্টের তারিখ: 17 October 2026 | প্রকাশের তারিখ: Oct 18, 2026

সংবাদ শিরোনাম : কুমিল্লায় তাজমিন হত্যা: সিএনজিচালক সুমনকে গ্রেপ্তার

কুমিল্লায় তাজমিন হত্যা: সিএনজিচালক সুমনকে গ্রেপ্তার

বিশেষ প্রতিনিধি, কুমিল্লা:

কুমিল্লার লালমাইয়ে ধানক্ষেত থেকে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) চট্টগ্রাম শহর থেকে তার এক ভাইয়ের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

​বিষয়টি নিশ্চিত করে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাকে কুমিল্লায় নিয়ে আসা হচ্ছে। তবে এ ঘটনায় আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে জানা যাবে।

​তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নিহত তাজমিনের মরদেহ উদ্ধারের স্থান থেকে পাওয়া পরিত্যক্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশাটির চালক ছিলেন এই সুমন। মূল আসামি সুমনের নির্দিষ্ট কোনো জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা নিজস্ব মুঠোফোন নেই। তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে। আগে কুমিল্লার বাগমারা দক্ষিণের জয়নগর গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে থাকলেও প্রায় এক মাস আগে বসতঘর বিক্রি করে তিনি সেখান থেকে চলে যান। তার মূল বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায়।

​এর আগে বৃহস্পতিবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সুমনের বোন, ভগ্নিপতি ও খালা-শাশুড়িকে পুলিশ হেফাজতে নেয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই চট্টগ্রামে অভিযান চালিয়ে সুমনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

​সিসিটিভি ফুটেজে উদ্ধার হওয়া তথ্য ও শেষ সময়ের ঘটনাপ্রবাহ:

পুলিশ ও পরিবারের সূত্রে জানা যায়, নিহত জান্নাতুল তাজমিন কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স ধানমন্ডি এলাকার বাসিন্দা আবদুল আলীমের মেয়ে। গত ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বের হয়ে সে কক্সবাজার ভ্রমণে যায়। সেখান থেকে বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতে বাসে করে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা হয় সে।

​সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে পুলিশ দেখেছে, বুধবার রাত পৌনে ১২টার দিকে পদুয়ার বাজারের নূরজাহান হোটেলের সামনে কক্সবাজার থেকে আসা ‘আইকনিক পরিবহন’-এর একটি বাস থেকে নামে তাজমিন। বাস থেকে নেমে সে হোটেলের পাশের খাবার ও স্টেশনারি দোকানের দিকে যায় এবং স্থানীয় এক দোকানির সঙ্গে কথা বলে পথ বা দিকনির্দেশনা নেয়। রাত সোয়া ১২টার দিকে নূরজাহান হোটেল এলাকা ত্যাগ করে বাসায় ফেরার উদ্দেশ্যে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠে তাজমিন।

​নিহতের বাবা আবদুল আলীম জানান, রাতে মেয়ে বাসায় না ফেরায় একাধিকবার কল করলেও সে ফোন ধরেনি। পরে রাত পৌনে দুইটার দিকে তাজমিন তার বাবাকে মোবাইলে একটি বার্তা ও তার লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে তাকে নিয়ে যেতে বলে। কিন্তু সেসময় ঘুমিয়ে থাকায় মেসেজটি দেখতে পাননি তার বাবা। পরদিন সকালে মেসেজ ও লোকেশন অনুসরণ করে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি মেয়ের মৃত্যুর খবর পান।

​বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভোরে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়ক সংলগ্ন লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে লালমাই থানা পুলিশ তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহের পাশেই পড়ে ছিল সুমনের ব্যবহৃত সেই নিবন্ধিত সিএনজিটি।

​লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নামে। মরদেহটি প্রথমে অজ্ঞাত থাকলেও পরবর্তীতে শনাক্ত করা হয়। তাজমিনের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ অনুসন্ধানে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও গ্রেপ্তারকৃত সুমনকে জিজ্ঞাসাবাদের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বাস্তব কন্ঠ
Developed by ZapStudio Network
🖨️ প্রিন্ট 💾 JPG 📄 PDF