Logo
প্রিন্টের তারিখ: 17 October 2026 | প্রকাশের তারিখ: Oct 18, 2026

সংবাদ শিরোনাম : রূপপুরে বড় অগ্রগতি, প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর অনুমোদন

রূপপুরে বড় অগ্রগতি, প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর অনুমোদন


ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি

দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও নানা কারিগরি জটিলতা পেরিয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর অনুমোদন মিলেছে। এর মধ্য দিয়ে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বিদ্যুৎ উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপে প্রবেশ করল।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়রা) প্রথম ইউনিটের ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’ শুরুর অনুমোদন দেয়। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনের আগে রিঅ্যাক্টরে নিয়ন্ত্রিত ও স্বয়ংসম্পূর্ণ পারমাণবিক চেইন রিঅ্যাকশন শুরু করার প্রক্রিয়াকেই ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’ বলা হয়।

বায়রা চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান জানান, পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর অনুমতি দেওয়া হলেও জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের আগে আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রথম ইউনিটের স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমনের সেফটি ভালভের (PORV/POSV) প্রযুক্তিগত জটিলতার কারণে ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটির অনুমোদন পেতে কিছুটা বিলম্ব হয়। পরে রাশিয়া থেকে আসা বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে সমস্যাটির সমাধান করা হয়। এরপর বিভিন্ন কারিগরি পরীক্ষায় সিস্টেমটি সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়।

অনুমোদনের পর এখন রিঅ্যাক্টরে ধাপে ধাপে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক চেইন রিঅ্যাকশন শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হবে। এ প্রক্রিয়ায় রিঅ্যাক্টরের বিভিন্ন পরামিতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জামের কার্যকারিতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, ‘ফিজিক্যাল স্টার্ট-আপ’ পর্যায়ে রিঅ্যাক্টরকে তার পূর্ণ নির্ধারিত তাপীয় ক্ষমতার এক শতাংশেরও কম শক্তিমাত্রায় পরিচালনা করে প্রাথমিক ক্রিটিক্যালিটি অর্জনের চেষ্টা করা হবে। পুরো ফিজিক্যাল স্টার্ট-আপ প্রক্রিয়ায় প্রায় ৩০ থেকে ৪০ দিন সময় লাগতে পারে।

এই ধাপ সফলভাবে শেষ হলে রূপপুরের প্রথম ইউনিট ‘পাওয়ার স্টার্ট-আপ’ পর্যায়ে প্রবেশ করবে। তখন ধীরে ধীরে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা বাড়ানো, টারবাইনের সঙ্গে সমন্বয় এবং জেনারেটরকে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত করার কার্যক্রম শুরু হবে।

তবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের আগে পরিচালনাকারী সংস্থাকে বায়রার কাছ থেকে প্রয়োজনীয় ট্রায়াল অপারেশনাল লাইসেন্স নিতে হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনের শুরুতে কেন্দ্রটির ক্ষমতা ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে। বিভিন্ন পর্যায়ে নিরাপত্তা ও কারিগরি কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের সুযোগ তৈরি হবে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, সব কারিগরি ও নিয়ন্ত্রক ধাপ সন্তোষজনকভাবে সম্পন্ন হলে চলতি বছরের ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ রূপপুরের প্রথম ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এর আগে নির্ধারিত সব পরীক্ষা, অনুমোদন ও নিরাপত্তা যাচাই সম্পন্ন করতে হবে।

জাতীয় গ্রিডে রূপপুরের বিদ্যুৎ যুক্ত হলে এটি বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হবে। একই সঙ্গে পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারে বাংলাদেশের সক্ষমতারও গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ ঘটবে।

বাস্তব কন্ঠ
Developed by ZapStudio Network
🖨️ প্রিন্ট 💾 JPG 📄 PDF