নিজস্ব প্রতিবেদক, নরসিংদী:
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিত্তিহীন গুজবকে কেন্দ্র করে নরসিংদীর মনোহরদীতে সৃষ্টি হয়েছে তুমুল চাঞ্চল্য। পুরোনো একটি পুকুরে ‘জলপরী’ দেখা গেছে—এমন কাল্পনিক গুঞ্জনে প্রলুব্ধ হয়ে গত পাঁচ দিন ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার উৎসুক মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় জমাচ্ছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং কুসংস্কার রুখতে ইতোমধ্যে সক্রিয় পদক্ষেপ নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
ঘটনাটি ঘটেছে মনোহরদী উপজেলার একদুয়ারিয়া ইউনিয়নের আলালপুর গ্রামে। স্থানীয় বাসিন্দা কবির আহমেদ ভূঁইয়ার প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো পারিবারিক পুকুরকে কেন্দ্র করে এই বিভ্রান্তির সূত্রপাত। পুকুরমালিক কবির আহমেদ জানান, তাদের পারিবারিক পুকুরটিতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে সিলভার কার্পসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করা হয়। সম্প্রতি কয়েকটি সিলভার কার্প মাছ একসঙ্গে পানির ওপর ভেসে সাঁতার কাটার একটি দৃশ্যকে কেন্দ্র করে কিছু অসাধু ও বিভ্রান্ত ব্যক্তি সেটিকে ‘জলপরী’ বলে রটিয়ে দেয়।
পরবর্তীকালে টিকটক ও ফেসবুকে সেই দৃশ্যের বিভ্রান্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে গ্রামজুড়ে কুসংস্কারাচ্ছন্ন কর্মকাণ্ড শুরু হয়। দেশের দূরদূরান্ত থেকে আসা লোকজনকে পুকুরপাড়ে ভোগ ও পূজা দিতে দেখা যায়। এমনকি তথাকথিত অলৌকিক গুণ পাওয়ার আশায় অনেকেই পুকুরের পানি শরীরে মাখছেন এবং বোতলে ভরে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন। বিপুলসংখ্যক মানুষের এই অযাচিত উপস্থিতির কারণে একদিকে যেমন পুকুরে মাছ চাষ ও প্রাকৃতিক পরিবেশ মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে চরম সামাজিক ভোগান্তি ও বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে মালিকপক্ষ।
গুজবের অবসান ঘটাতে মঙ্গলবার বিকেলে সরেজমিনে অভিযানে নামে উপজেলা প্রশাসন। মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে স্থানীয় প্রশাসনের একটি দল পুকুরে বড় জাল ফেলে ব্যাপক তল্লাশি চালায়। অনুসন্ধান শেষে ইউএনও নিশ্চিত করেন, পুকুরে স্বাভাবিক চাষের মাছ ছাড়া অলৌকিক বা অস্বাভাবিক কোনো কিছুরই অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে এ ধরনের অন্ধবিশ্বাস ও কাল্পনিক গুজবে কান না দেওয়ার জন্য জোরালো আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সত্যতা যাচাই ছাড়া কোনো পোস্ট বা তথ্য শেয়ার না করার কঠোর নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, যারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জনমনে বিভ্রান্তি ও অস্থিরতা তৈরি করতে এ ধরনের গুজব ছড়াবে, তাদের চিহ্নিত করে প্রচলিত আইনে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওই এলাকায় প্রশাসনিক নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।