অনলাইন ডেস্ক:
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি, লাগেজ চুরি কিংবা যেকোনো অনিয়ম রুখতে যার উপস্থিতি ছিল নিয়মিত, সেই পরিচিত মুখ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (বর্তমানে সিনিয়র সহকারী সচিব) নওশাদ খানকে ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। বেশ কিছুদিন ধরে ভার্চুয়াল মাধ্যমে তাকে আগের মতো সক্রিয় না দেখায় তিনি কি বদলি হয়ে গেছেন—এমন নানা জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছিল ফেসবুকে। তবে এসব গুজব উড়িয়ে দিয়ে কালবেলা অনলাইনকে তিনি নিশ্চিত করেছেন, তিনি এখনও বিমানবন্দরের সেবামূলক কাজেই দায়িত্ব পালন করছেন।
২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে শাহজালাল বিমানবন্দরে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে কাজ শুরু করেন নওশাদ খান। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিমানবন্দরে তাৎক্ষণিক অভিযান, লাগেজ হ্যান্ডলিংয়ে কঠোর নজরদারি এবং কর্মীদের জবাবদিহির আওতায় আনার মতো পদক্ষেপ নিয়ে তিনি সাধারণ যাত্রী ও প্রবাসীদের আস্থা অর্জন করেন। দ্রুত পদক্ষেপে অনিয়ম প্রতিরোধের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার প্রশংসার পাশাপাশি যাত্রীরা তাকে ‘ফাটাকেষ্ট’ উপাধিও দেন।
যাত্রীদের সুবিধা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তার উদ্যোগেই লাগেজ হ্যান্ডলিংয়ের কর্মীদের জন্য বডি-ক্যামেরা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয় এবং গুরুত্বপূর্ণ জোনগুলোতে বসানো হয় সিসিটিভি ক্যামেরা, যার ফুটেজ নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সংরক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে আবারো বিমানবন্দরে দীর্ঘ অপেক্ষা, লাগেজ পেতে বিলম্ব এবং ট্রলি সংকট নিয়ে প্রবাসীদের ক্ষোভের চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভেসে উঠছে। সম্প্রতি মদিনা থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটের যাত্রীদের লাগেজ ও জমজমের পানি সংক্রান্ত বিলম্ব ঘিরে সৃষ্টি হওয়া অপ্রীতিকর ঘটনাটি সেই আলোচনাকে নতুন করে উসকে দেয়। ওই ঘটনার একপর্যায়ে সরকারি কাজে বাধা ও লাঞ্ছনার অভিযোগে অবসরপ্রাপ্ত মেজর ও জামায়াত নেতা মোহাম্মদ আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারও করা হয়।
বিমানবন্দরের এসব ভোগান্তির খবর প্রকাশ্যে আসার পর নেটিজেনরা আবারো স্মরণ করছেন নওশাদ খানের কঠোর নজরদারির দিনগুলোর কথা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই পোস্ট করে তাকে বিমানবন্দরে আবার সক্রিয় দেখার আকুতি জানান।
উম্মে ফাতেমা নামের এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লেখেন, "নওশাদ সাহেবকে দেখতে চাই। উনি ঠিক ছিলেন..." অন্যদিকে অন্তিকা বড়ুয়া লেখেন, "এই ভালো মানুষটাকে আবার বিমানবন্দরে যোগ দেওয়ানো হোক, এতে সরকারেরও সুনাম অর্জন হবে।"
মানুষের এমন প্রশ্নের জবাব এবং তিনি বর্তমানে কোথায় আছেন জানতে চাইলে নওশাদ খান কালবেলা অনলাইনকে বলেন, “আমি এখনও বিমানবন্দরেই আছি। একটু আগেই লাগেজের তদারকির কাজ সারলাম। অনলাইনের এসব খবর আমিও দেখছি।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার অনুপস্থিতি নিয়ে তৈরি হওয়া ভুল বোঝাবুঝির বিষয়ে তিনি জানান, তিনি মূলত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যক্তিগতভাবেই এড়িয়ে চলেন, আর সে কারণেই হয়তো অনেকের মনে হয়েছে তিনি বদলি হয়ে গেছেন।
বিমানবন্দরে যাত্রীসেবার সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক কিছুই শোনা যায়। তবে আমাদের কাছে যদি কেউ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জানান, আমরা সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিই। সাধারণ মানুষকে বলব নির্দিষ্ট অভিযোগ জানাতে, তাহলে নিশ্চয়ই প্রতিকার পাবেন।”