ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ): সরকারি ফ্যামিলি কার্ড পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে নার্গিস আক্তার নামে এক নারীকে আটক করেছে ঈশ্বরগঞ্জ থানা পুলিশ। স্থানীয় প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধিদের নাম ভাঙিয়ে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে মোট ৯৮ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর ফাঁদ পেতে মঙ্গলবার তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয় ক্ষুব্ধ জনতা।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, পূর্বপরিচয়ের সুবাদে নার্গিস আক্তার স্থানীয়দের আশ্বাস দেন যে তিনি প্রভাব খাটিয়ে দ্রুত সরকারি ফ্যামিলি কার্ডের ব্যবস্থা করে দেবেন। তার আশ্বাসে বিশ্বাস করে রাবেয়া খাতুন নামের এক নারী ১৮ হাজার টাকা এবং আরও পাঁচজন ১৬ হাজার টাকা করে—সর্বমোট ৯৮ হাজার টাকা নার্গিসের হাতে তুলে দেন। তবে টাকা নেওয়ার পর থেকেই তিনি দেড় মাস ধরে নানা টালবাহানায় কার্ড না দিয়ে ঘুরাতে থাকেন।
ভুক্তভোগী রাবেয়া খাতুন জানান, আঠারবাড়ী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মিজানুর রহমান আলমগীর এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হাবিবুর রহমানের প্রভাব খাটিয়ে কার্ড করে দেওয়ার কথা বলেছিলেন নার্গিস। সম্প্রতি কার্ড না দিয়ে তিনি উল্টো আরও ৪ হাজার টাকা দাবি করলে ভুক্তভোগীদের সন্দেহ হয়। এরপর কৌশল অবলম্বন করে বাকি ৪ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলে মঙ্গলবার নার্গিসকে রায়েরবাজারে ডেকে আনা হয়। তিনি পৌঁছামাত্রই স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে আটক করে পুলিশে দেওয়া হয়।
ঘটনার পর অভিযুক্ত ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান আলমগীরের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। তবে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান জানান, সোমবার বিষয়টি তার নজরে আসার পর তারা বুঝতে পারেন জনপ্রতিনিধিদের নাম ভাঙিয়ে ওই নারী প্রতারণা করছিলেন। পরে ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে ফাঁদ পেতে নার্গিসকে আঠারবাড়ীতে ডেকে এনে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজ্জাদ রোমন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার নামে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে নার্গিস আক্তারকে আটক করে পুলিশ হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরসহ পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।